হার্ট ভালো রাখতে বেছে নিন চারটি সহজ খাবার কৌশল

হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখা আর দীর্ঘদিন ভালো থাকার মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে প্রতিদিনের খাবারের পাতে। আমরা কী খাচ্ছি, কতটা খাচ্ছি- এই ছোট ছোট অভ্যাসই ধীরে ধীরে শরীরকে সুস্থ রাখে বা ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়। ঠিকঠাক খাবার বাছাই করলে হৃদয় ভালো থাকে, বিপাক ঠিক থাকে, বয়সের সঙ্গে শক্তিও ধরে রাখা যায়।

সম্প্রতি দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিজ্ঞ হৃদরোগ সার্জন ডা. জেরেমি লন্ডন এ কথাই সহজ করে বলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিওতে তিনি হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে চারটি সহজ কিন্তু কার্যকর পুষ্টি পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, এই অভ্যাসগুলো মানলে শুধু হৃদযন্ত্রই নয়, পুরো শরীর দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব।

ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে চলুন জেনে নিই এই সহজ চারটি কৌশল –
 

১. কতটা খাচ্ছেন, সেটাই আসল কথা

ডা. লন্ডনের মতে, অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলেন। এতে ধীরে ধীরে ওজন বাড়ে, বাড়ে হৃদরোগের ঝুঁকিও। ওজন ঠিক রাখতে মূল সূত্র খুব সহজ- যত ক্যালরি খাওয়া হবে, ততটাই খরচ করতে হবে।

তার ভাষায়, “অতিরিক্ত খাওয়াই স্থূলতার বড় কারণ। বাড়তি ওজন হৃদরোগসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। ওজন ঠিক থাকলে হৃদয়ও ভালো থাকে।”
 
২. খাবারে আঁশ থাকতেই হবে

হৃদয় ভালো রাখতে আঁশযুক্ত খাবারের বিকল্প নেই। ফল, শাকসবজি, ডাল, শস্যজাত খাবারে থাকা আঁশ হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে।

ডা. লন্ডন বলেন, “বেশিরভাগ মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় কম আঁশ খান। অথচ বেশি আঁশ খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে, শরীরও ভালো থাকে।”
  

৩. প্রোটিনে ভরসা রাখুন

শরীরের পেশি গঠন ও ধরে রাখতে প্রোটিন খুব জরুরি। বয়স বাড়লেও পেশি শক্ত থাকলে চলাফেরা সহজ হয়, শরীর কর্মক্ষম থাকে।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কথায়, “প্রোটিন পেশি গঠনে সাহায্য করে। ভালো পেশি মানেই ভালো বিপাক, স্বাধীন জীবন আর দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতা।”
 
  

৪. নিজের শরীরকে বুঝে খাবার ঠিক করুন

ডা. লন্ডন মনে করেন, শুধু আন্দাজে নয়- রক্ত পরীক্ষা করে শরীরের ঘাটতি জানা জরুরি। এতে বোঝা যায়, কোন পুষ্টি কম আছে, কোথায় বদল দরকার।

তিনি বলেন, “আপনি যদি জানতে চান আপনার খাবার ঠিক পথে যাচ্ছে কি না, তাহলে রক্ত পরীক্ষা করুন। এতে নিজের জন্য সঠিক খাবার ঠিক করা সহজ হয়। প্রয়োজনে পারিবারিক চিকিৎসকের সাহায্য নিন।”
 
হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে বড় কোনো পরিবর্তন দরকার নেই। প্রতিদিনের খাবারে সামান্য সচেতন হলেই অনেকটা পথ এগোনো যায়। কম খাওয়া, আঁশ ও প্রোটিনে জোর দেওয়া আর নিজের শরীরকে বুঝে খাবার বাছাই- এই চারটি অভ্যাসই হতে পারে সুস্থ হৃদয় আর দীর্ঘ জীবনের সহজ পথ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *